মোট পৃষ্ঠাদর্শন

শনিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯

আমার দেশ – প্রজাতন্ত্র ৭০


আমি সৌভাগ্যশালী আমার জন্ম হয়েছে স্বাধীন, প্রজাতান্ত্রিক ভারতবর্ষে। শৈশব, কৈশোর অতিবাহিত হয়েছে প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক পরিবেশ। ভুবনায়নপূর্ব, সমাজতন্ত্র ঘেঁসা সাদামাঠা দেশীয় অর্থনীতির আড়ম্বরহীন জীবন সহায়ক ছিল দেশের ইতিহাস, ভূগোলে আগ্রহী করতে। দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, আদর্শবাদ, বিপ্লব ও বিপ্লবী - এই শব্দগুলো আমার কাছে দেশকে সংজ্ঞায়িত করেছিল। রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র, বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনকথা শিখিয়েছিল জাতীয়তা আন্তর্জাতিকতার পরিপূরক, পরিপন্থী নয়। দেশ অর্থে আমার দেশের রামধনু সংস্কৃতি, বহুত্বকে গ্রহন করার ঔদার্য। ধীরে ধীরে দেশ আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হল, চারপাশে চাকচিক্য বাড়ল , জীবনে অনেক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রন বাড়ল। গতিময়, সমৃদ্ধশালী সময়ে পরিবারের সাথে সাথে দেশের সাথেও বাঁধন শিথিল হল। আজ নিজেকে প্রশ্ন করি তবে কী আমার জানা দেশের সংজ্ঞা বদলের সময় এসেছে? উত্তর পাই - না। স্থির, ধৈর্যশীল হয়ে দেশকে তার আবহমান সংস্কৃতির মধ্যে অন্বেষনের সময় এসেছে। দেশ চিরন্তন তাই হারানোর ভয় নেই শুধু আত্মদীপ হয়ে দেশসেবার প্রয়োজন। আমার দেশ - তার জল, আকাশ, নদী, গাছপালা, পশুপাখি, সাধারন মানুষ এখন দোহনের পরিবর্তে ভালোবাসা চায়, সেবা চায়, সব দূষন থেকে মুক্তি চায়। 

সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৭

স্বাধীনতা ৭১, আমার দেশঃ ফিরে দেখা


রাত পোহালে আমার দেশের স্বাধীনতার বয়স হবে ৭১, সেই সাথে দেশ বিভাজনেরও ৭১। এই ৭১ -এর প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় আমার দেশকে আমি খুব কাছ থেকে বিবর্তিত হতে দেখেছি। আমার জন্ম ১৯৮০ -র পশ্চিমবঙ্গে। তখন এই রাজ্য জুড়ে বামপন্থী ক্ষমতায়নের ভরা জোয়ার। আগের দশক উত্তাল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে, নানা রাজনৈতিক গণআন্দোলনে। অর্থাৎ একটা সজীব রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ।
সাধারণ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারেও স্বদেশ চেতনার একটা ফল্গুধারা তখনও প্রবাহিত। তখনও দেশবাসীর কাছে স্বাধীনতা যোদ্ধা, বিপ্লবীরা দেশনায়ক। আমার কাছেও মহাজাতিসদনের দেওয়ালে টাঙানো বিপ্লবী শহীদের তৈলচিত্ররা পরিচিত আপনজন। তারপর নয়ের দশক থেকে দেশ-কালের ছন্দ বদলালো, স্বাচ্ছন্দ্য এলো আর এলো বিপননের পসরা। অনেক ভোগ্যপন্যের আতিশয্যে, অগাধ বিনোদনের হাতছানিতে আর আরো ভালো থাকার নেশায় আমার শৈশবের 'দেশ' কোথায় হারিয়ে গেল। আমরা বিশ্বায়িত হলাম, তবে শৈশবে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতীর বিশ্বসাথে যোগের যে সংস্কৃতিকে জেনেছিলাম তার সাথে এর কোনো মিল ছিলনা। নিজেকে কেমন শিকড়হীন কচুরিপানার মতো মনে হতো তবু খুঁজে ফিরেছি আমার দেশকে আমার মতো করে। অনুভব করেছি সেই দেশকে ভালোবাসার সেই অবেগ আছে, হারিয়ে যায়নি তবে কেমন যেন চ্ছন্নছাড়া, দিশেহারা।
ইদানীংকালে একটা বদলের স্পন্দন অনুভব করি নতুন প্রজন্মের মধ্যে, আপাত পশ্চিমমুখী জীবনযাত্রার মাঝেও তারা তাদের সংস্কৃতির শিকড় খুঁজে চলেছে তাদের মতো করে। গ্রন্থাগারিক হয়ে দেখছি আজকের তরুন প্রজন্ম মুক্ত মনে দেশকে খুঁজছে বইয়ের পাতায়, ওয়েব ব্রাউজারে।

শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১৬

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ও তাঁর স্বপ্ন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ও তাঁর স্বপ্ন
আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী, ১২৫ বছর পরে আমার জানতে ইচ্ছা করে তিনি কী সত্যিই বিস্মৃত অতীত নাকি তাঁর স্বপ্নেরা নিঃশব্দে পাখা মেলেছে আমাদের রোজকার জীবনে  আমাদের অজান্তে ।
 জীবনের অপরাহ্নে, আজীবন সংগ্রামের  শেষে  আপাত ব্যর্থতার তীব্র গ্লানি তাঁকে অভিমানী করেছিল, বেদনাহত হয়েছিলেন। প্রিয় বঙ্গভূমি ছেড়ে তিনি শেষ ১৮ বৎসরের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন কর্মাটারে। কিন্তু তিনি যদি সত্যিই ব্যর্থ হতেন তবে মাত্র দেড়শো বছরের ব্যবধানে কী আমাদের মেয়েদের জীবনে এতটা পরিবর্তন আসত। আজ আমরা মেয়েরা যে শিক্ষার, কর্মের, স্বাধীন নাগরিকত্বের অধিকার অর্জন করেছি সে তো  তাঁরই স্বপ্নপূরণ। কল্যানকামী রাষ্টব্যবস্থা, প্রান্তিক মানুষের খাদ্য,স্বাস্থ্য, শিক্ষার অধিকারের লড়াই তো তাঁরই সংগ্রামের উত্তরাধিকার। জ্ঞান, ত্যাগ, সেবার মন্ত্রে দীক্ষা দিতে - ধর্ম, বর্ণ,জাতির ঊর্দ্ধে শিক্ষাকে স্থাপন করতে ১৮৭২ খ্রীষ্টাব্দে তিনি যখন মেট্রোপলিটান কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তখন তা ছিল অলীক স্বপ্ন। আজ তা বাস্তব। এখনও অনেক পথ বাকি কিন্তু যে মহান মনুষ্যত্বের বীজ তিনি বপন করে গেছেন তা অমর – মৃত্যুহীন, সততপ্রবাহমান এক প্রাণধারা। 

বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

বসন্ত ও নাগরিক জীবন

আমি একজন নগরবাসী, আমার জীবন পরিচালিত হয় ক্যালেন্ডারের তারিখ অনুযায়ী।  সেই অনুসারে আজ বসন্সত উৎসা, দোল কিন্তু আমার সাথে বসন্তের তো দেখা হয়নি। তবে সে কী আসেনি? এসেছে দেখা হয়নি। কেমন করে হবে - দখিন হাওয়া, পলাশ, কৃষঞ্চূড়া, কোকিল, চাঁদের আলো, গুনগুনিয়ে ওঠা গানের কলি...  সব কেমন বিস্মৃত অতীত। প্রকৃতির সাথে সন্নগতহীন সেই বসন্ত ঊৎসবের ডালি তবে কী দিয়ে সাজানো -  আবিরে, পলাশের মালায়, প্রথা অনুযায়ী পোষাকে, গানে -  যা অনেক আগেই ছুটি নিয়েছে আমাদের রোজকার জীবন থেকে।

 নাগরিক জীবন কী তবে বসন্তহীন? আতিশয্যের খোলস থাকলেও অন্তঃসারশূণ্য। প্রকৃতির সাথে মিলন না হলে জীবন রঙিন হবে কেমন করে? হয়তো নাগরিক আমার মন অপেক্ষা করছে কোন বসন্তের ব্রজ নির্ঘোষের।

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

বইয়ের কথা - বিশ্বকর্মার সন্ধানে



বইয়ের কথা
বিশ্বকর্মার সন্ধানে
মীরা মুখোপাধ্যায়
প্রকাশকঃ মীরা মুখোপাধ্যায় ; পরিবেশকঃ দীপায়ন। কলকাতা।
প্রথম প্রকাশঃ জানুয়ারী, ১৯৯৩
৮৯ পৃষ্ঠা
এই বইটির লেখিকা একজন শিল্পী, শিল্পের গবেষিকা এবং ভারত ইতিহাস ও সমাজের অনালোকিত অধ্যায়ের সন্ধানকারী। এই বইটিতে তিনি ‘বিশ্বকর্মা’ শব্দের সঙ্গে জড়িত সমস্ত মিথ, পৌরানিক, ঐতিহাসিক, সমাজ ইতিহাসের অনালোকিত অধ্যায়গুলি আলোকিত করেছেন সংগৃহীত তথ্য, উদ্ধৃতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বোধের আলোকে। এযেন নিজের সমাজকে নতুন করে জানা। সমাজের যে দক্ষ, শিল্পকার, কারিগর, বাস্তুকার – কর্মাদের যে কাহিনী আমরা কখনো কান পেতে শুনতে চায়নি বা পায়নি মীরা মুখোপাধ্যায় সেই কাহিনী এই বইতে আমাদের জানিয়েছেন। নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছেন এই সুপ্রাচীন সভ্যতার প্রকৃত কারিগরদের ‘মূল’কে, টিকে থাকার সংগ্রামী কাহিনী নিয়ে। এই বইয়ের অধ্যায়গুলির দিকে অনুসন্ধি দৃষ্টিপাত করলেই বোঝা যায় ইতিহাস বুঝি নতুন করে কিছু বলতে চায় –
Ø  সমুদ্রমন্থন
Ø  বিশ্বকর্মাঃ কাজের সূচনা
Ø  বিশ্বকর্মা পূজার নানা সময় ও বিধিনিয়মঃ একতা ও ভিন্নতা
Ø  বিশ্বকর্মাঃ লোককথা গল্প কিংবদন্তি
Ø  ধর্মপূজা
Ø  ঘুড়ি ও বিশ্বকর্মা
Ø  বিশ্বকর্মা ও তীর্থ
Ø  অসুর এবং বিশ্বকর্মা
Ø  স্থাপত্যবিদ্যা এবং বিশ্বকর্মা
Ø  বিশ্বকর্মার সন্ধানেঃ শেষ অধ্যায়

শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৪

বইয়ের কথা



আমি বিবেকানন্দ বলছি
মুখবন্ধ ও সম্পাদনা শংকর
প্রকাশক সাহিত্যম্‌
১৮ বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট কলকাতা-৭০০০৭৩
প্রথম প্রকাশ ২০০৮। পৃষ্ঠাঃ ৩৮৩।
ISBN: 81-7267-033-8মূল্যঃ ১২৫ টাকা।
এই বইটি এক বিরল মানুষের আত্মকথন কিন্তু আত্মজীবনী নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি নিজের কথা, নিজের পরিজন, ভাবনা, স্বপ্ন নিয়ে যা বলেছেন বা লিখেছেন তার এক অসাধারণ সংকলন। পড়তে পড়তে মনে হয় স্বামীজী যেন নিজের জীবনের গল্প বলছেন। কখনো তঁআকে মনে হয় এক ভেঙে পড়া এক হালভাঙা মানুষ যার স্বপ্নগুলো প্রতি মূহূর্তে দলিত হচ্ছে, দেশের মানুষ্কে বুঝতে পারছেন কিন্তু বোঝাতে পারছেন না তো আবার পরক্ষনে ঝলসা ওঠে বীর, বিপ্লবী এক তরুণ সন্ন্যাসীর সঙ্কল্প। এই বইটি পড়ে আমি এক মানুষ বিবেকানন্দের সন্ধান পেয়েছি যার রাগ হয়, অভিমান হয় কিন্তু মেধা, ভালবাসা আর মনুষ্যত্বের এক অফুরন্ত উৎসধারা। অ-সাধারণ এক মানুষ।

শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৪

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতী গণধর্ষণ ও এক নারীর প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতী গণধর্ষণ ও এক নারীর প্রতিক্রিয়া

প্রথম ভাগ

আমি পশ্চিমবঙ্গবাসী একজন নারী এছাড়া আমার কোনো আত্মপরিচয় ছিল, আছে বা থাকবে কিনা আমি জানিনা। বিগত কয়েক মাস যাবৎ আমার চারপাশের জগৎটা ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠেছে টের পাচ্ছিলাম তা ব্যক্তিগত পরিসরে হোক বা কাজের জগতে। পড়াশোনার কাজে, বেড়ানোর নেশায় বাংলার বাইরে আমি বছরে দুবার তিনবা পা বাড়াই এবং সেটা প্রায় সময় একা। একা মেয়ে পথচলার অভিজ্ঞতা আমার আছে। কিন্তু ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যের থেকে বরাবর পশ্চিমবঙ্গকে অনেকবেশি মননশীল ও কোমল বলেই বোধ হয়েছে এবং পরোক্ষ শোষণ,হেনস্থা থাকলেও সামাজিক পরিসরে একটা ভদ্রতার মোড়কে ঢাকা থাকত। কিন্তু ভারতবর্ষের মতো এরাজ্যও ক্রমশঃ নারীর প্রতি পাশবিক অত্যাচারে মত্ত হয়ে উঠেছে তা যেমন রোজকার অভিজ্ঞতায় অনুভব করেছি তেমনই সংবাদ শিরোনাম দেখে নিশ্চিত হয়েছি ভুল ভাবছি না। প্রথমে মনে হতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তারপর নিত্যকার। কেন এমন হল বা হচ্ছে সে উত্তর তো খুঁজতে হবেই কিন্তু যে ঘটনা আমাকে বেদনাতে স্তব্ধ করেছে, নৃশংসতার কথা ভেবে শিহরিত করেছে তা হল আমার বাসস্থান থেকে মাত্র কিছু কিলোমিটার দুরত্বা এক ২০ বছরের আদিবাসী তরুণীকে তার গোষ্ঠীর পঞ্চায়েত জরিমানা ও গণধর্ষণের শাস্তি দিচ্ছে ভিন্ন ধর্মের যুবকে ভালোবাসার অপরাধে আর চিল শকুনের মতো ঝাঁপ দিচ্ছে তারি স্বগোষ্ঠীর আত্মীয়, প্রতিবেশীরা যাদের মধ্যে সে এতদিন বেঁচেছিল আপনজন মনে করে। তার পরিবার তার আর্তচিৎকার শুনেছে কিন্তু রক্ষা করতে পারেনি। এই পাশবিক, অমানবিক ঘটনা যেমন আমাকে বিহ্বল করেছে তার গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রতিক্রিয়া, তাদের আচরণ। তারা এই ঘটনার সমর্থনকারী, পরোক্ষ মদতদাতা। প্রাথমিক বিহ্ববলতা কাটিয়ে ওঠার পর আমি বুঝতে চেয়েছি এরা আদৌ কোনোদিনও মনুষ্যত্বে বিশ্বাসী ছিল, মানবিক ছিল না এরা আবহঅমানকাল ধরে এমনই।
আমার মনে হয়েছে এই ধরনের ঘটনা যে এই উপমহাদেশে, এ সমাজে বিরল তা কখনোই নয়। আকছার না ঘটলেও অতীতে বহুবার যে এমন ঘটেছে সে তো  মুখতারণ মাঈ এর ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তখন হয়তো ভেবে সান্ত্বনা পেয়েছিলাম সীমান্তের ওপার - এপারে এমন কী করে হবে এখানে তো গ্ণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত, এ ছিল আমার মূর্খের স্বর্গবাস। প্রযুক্তির দৌলতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় আর কিছু না হোক অত্যাচারের খুঁটিনাটি বিবরণ ঘরে বসে অবগত হওয়া যায় আর সেই অবগতিই আমাকে সদ্য অতীত আরো কিছু ঘটনার কথা মনে করায়, কিছুদিন আগে এক যুবক প্রকাশ্য দিবালোকে তার বোনের মাথা কেটেছিল ভালোবাসার অপরাধে, পারিবারিক সম্মান রক্ষার্থে  এরাজ্যেই। তাকে অনুতপ্ত হতে দেখা যায়নি। কামদুনিতে পরিচিত, প্রতিবেশী স্বজনেরাই ধর্ষণ করে খুন করেছিল তরুণীকে।প্রতিটি ঘটনাই নিজ নিজ নৃশংসতার বৈশিষ্ঠ্যে বিশিষ্ঠ কিন্তু একটি বিষয় সবঘটনাতেই লক্ষণীয় নারীর প্রতি পুরুষের, পুরুষতন্ত্রের তীব্র আক্রোশ। এই শেষ ঘটনাটিতে সেই আক্রোশ  গোষ্ঠীগত সিলমোহর পেয়েছে ইযা আরো ভয়ানক। কোনো সামাজিক ব্যাধি, যদি সেই সমাজে সামাজিক শাস্তিবিধানের প্রথা হয়ে দাঁড়ায় তবে তা অকল্পনীয় এক বিপর্যয় নিয়ে আসতে বাধ্য। আজ আমার সমাজ দ্বিধাবিভক্ত নারী ও পুরুষ এই দুই শিবিরে নয় বরং নারীকে মানুষ বলে একজন জীবন্ত ব্যক্তি স্বত্তা বলে মান্যতা দেওয়া মানুষ ও পাশবিক প্রবৃত্তিকে আঁকড়ে ধরা পুরুষতন্ত্রে বিশ্বাসী কিছু মানুষ (যদিও এদের মধ্যে কোনো মানবিকতার লেশমাত্র পাওয়া যাবে না)। এ লড়াই সভ্যতার নবতম ও প্রবলতম সংকট। আমরা যারা প্রথম শিবিরের যোদ্ধা তারা এই মূহূর্তে আহত ও ভীষণভাবে আক্রান্ত কিন্তু আমরা বিশ্বাস হারায়নি, এই গভীরতম সংকটের সময় আমাদের আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যুক্তিবাদী, মানবিক হতে হবে।শত্রু পক্ষের হিংসা বা প্রতিশোধের আগুনে ঝলসানো নয় আগুনকে আলো করে তোলার সাধনায় ব্রতী হতে হবে। আর প্রথম পদক্ষেপ ভয়হীনতা। নির্ভয়া।