মোট পৃষ্ঠাদর্শন

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০

করোনার গ্রাসে আমার দেশ

সারা বিশ্বের মত আজ আমার দেশ ভারতবর্ষেও করোনা নামক রোগ দাপিয়ে বেড়াচ্ছ, চারিদিকে ভয়, অবিশ্বাস আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কা। ভয় রোগ ছাড়া রুটি রুজিরও। দরিদ্র মানুষের ভয় আরো বেশি। ক্ষুধা, আশ্রয়হীনতা ইতিমধ্যেই থাবা বসিয়েছে তাদের জীবনে। কোটি, কোটি পরিযায়ী শ্রমিক, ছোট চাষী, ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক, পথবাসী মানুষ,  কাগজকুড়ানি - এমন অগুনতি সমাজের প্রান্তিক মানুষ সব চাইতে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। তাদের এই অসহায়তার  ছবি অনেকদিন পর জানান দিয়েছে এই সমাজে তারা বিজ্ঞাপিত না হয়ে থাকলেও, প্রায় অদৃশ্য হলেও তারাই এই সমাজের পিলসুজ। সভ্যতার আলোক তারাই বহন করে। এই বঞ্চিত মানুষগুলোই সভ্যতাকে সচল রাখে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, সুচিকিৎসা, সৌহার্দ্য দিয়ে জনকল্যানকামী রাষ্ট্র কতখানি পারবে ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে নানা ধর্ম, বর্ণ, ভাষার এই বিশাল দেশকে আগলে রাখতে সেটাই দেখার।আমার শহর 'রেড+ জোনে', এখানে অটো চালক, ই-রিকশা চালক, ফুচকাওয়ালা রুজির টানে সবাই সবজি বিক্রেতা। আজ দুধ সংগ্রহে গিয়ে দেখি পাড়ার অনেক স্বচ্ছল মানুষ বস্তিতে মানুষদের সাহায্য প্রাপ্তিকেও বাঁকা চোখে দেখছে। তবে নানা সংস্থা, ধর্মীয় সংগঠন, কিছু সাধারণ মানুষ নিজেদের মতো করে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে এটাই স্বস্তির। এই যুদ্ধে মানুষ ও মনুষ্যত্ব দুই জয়লাভ করুক এই প্রার্থনা।

শনিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯

আমার দেশ – প্রজাতন্ত্র ৭০


আমি সৌভাগ্যশালী আমার জন্ম হয়েছে স্বাধীন, প্রজাতান্ত্রিক ভারতবর্ষে। শৈশব, কৈশোর অতিবাহিত হয়েছে প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক পরিবেশ। ভুবনায়নপূর্ব, সমাজতন্ত্র ঘেঁসা সাদামাঠা দেশীয় অর্থনীতির আড়ম্বরহীন জীবন সহায়ক ছিল দেশের ইতিহাস, ভূগোলে আগ্রহী করতে। দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, আদর্শবাদ, বিপ্লব ও বিপ্লবী - এই শব্দগুলো আমার কাছে দেশকে সংজ্ঞায়িত করেছিল। রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র, বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনকথা শিখিয়েছিল জাতীয়তা আন্তর্জাতিকতার পরিপূরক, পরিপন্থী নয়। দেশ অর্থে আমার দেশের রামধনু সংস্কৃতি, বহুত্বকে গ্রহন করার ঔদার্য। ধীরে ধীরে দেশ আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হল, চারপাশে চাকচিক্য বাড়ল , জীবনে অনেক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রন বাড়ল। গতিময়, সমৃদ্ধশালী সময়ে পরিবারের সাথে সাথে দেশের সাথেও বাঁধন শিথিল হল। আজ নিজেকে প্রশ্ন করি তবে কী আমার জানা দেশের সংজ্ঞা বদলের সময় এসেছে? উত্তর পাই - না। স্থির, ধৈর্যশীল হয়ে দেশকে তার আবহমান সংস্কৃতির মধ্যে অন্বেষনের সময় এসেছে। দেশ চিরন্তন তাই হারানোর ভয় নেই শুধু আত্মদীপ হয়ে দেশসেবার প্রয়োজন। আমার দেশ - তার জল, আকাশ, নদী, গাছপালা, পশুপাখি, সাধারন মানুষ এখন দোহনের পরিবর্তে ভালোবাসা চায়, সেবা চায়, সব দূষন থেকে মুক্তি চায়। 

সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৭

স্বাধীনতা ৭১, আমার দেশঃ ফিরে দেখা


রাত পোহালে আমার দেশের স্বাধীনতার বয়স হবে ৭১, সেই সাথে দেশ বিভাজনেরও ৭১। এই ৭১ -এর প্রায় অর্ধেকের বেশি সময় আমার দেশকে আমি খুব কাছ থেকে বিবর্তিত হতে দেখেছি। আমার জন্ম ১৯৮০ -র পশ্চিমবঙ্গে। তখন এই রাজ্য জুড়ে বামপন্থী ক্ষমতায়নের ভরা জোয়ার। আগের দশক উত্তাল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে, নানা রাজনৈতিক গণআন্দোলনে। অর্থাৎ একটা সজীব রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ।
সাধারণ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারেও স্বদেশ চেতনার একটা ফল্গুধারা তখনও প্রবাহিত। তখনও দেশবাসীর কাছে স্বাধীনতা যোদ্ধা, বিপ্লবীরা দেশনায়ক। আমার কাছেও মহাজাতিসদনের দেওয়ালে টাঙানো বিপ্লবী শহীদের তৈলচিত্ররা পরিচিত আপনজন। তারপর নয়ের দশক থেকে দেশ-কালের ছন্দ বদলালো, স্বাচ্ছন্দ্য এলো আর এলো বিপননের পসরা। অনেক ভোগ্যপন্যের আতিশয্যে, অগাধ বিনোদনের হাতছানিতে আর আরো ভালো থাকার নেশায় আমার শৈশবের 'দেশ' কোথায় হারিয়ে গেল। আমরা বিশ্বায়িত হলাম, তবে শৈশবে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতীর বিশ্বসাথে যোগের যে সংস্কৃতিকে জেনেছিলাম তার সাথে এর কোনো মিল ছিলনা। নিজেকে কেমন শিকড়হীন কচুরিপানার মতো মনে হতো তবু খুঁজে ফিরেছি আমার দেশকে আমার মতো করে। অনুভব করেছি সেই দেশকে ভালোবাসার সেই অবেগ আছে, হারিয়ে যায়নি তবে কেমন যেন চ্ছন্নছাড়া, দিশেহারা।
ইদানীংকালে একটা বদলের স্পন্দন অনুভব করি নতুন প্রজন্মের মধ্যে, আপাত পশ্চিমমুখী জীবনযাত্রার মাঝেও তারা তাদের সংস্কৃতির শিকড় খুঁজে চলেছে তাদের মতো করে। গ্রন্থাগারিক হয়ে দেখছি আজকের তরুন প্রজন্ম মুক্ত মনে দেশকে খুঁজছে বইয়ের পাতায়, ওয়েব ব্রাউজারে।

শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০১৬

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ও তাঁর স্বপ্ন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ও তাঁর স্বপ্ন
আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী, ১২৫ বছর পরে আমার জানতে ইচ্ছা করে তিনি কী সত্যিই বিস্মৃত অতীত নাকি তাঁর স্বপ্নেরা নিঃশব্দে পাখা মেলেছে আমাদের রোজকার জীবনে  আমাদের অজান্তে ।
 জীবনের অপরাহ্নে, আজীবন সংগ্রামের  শেষে  আপাত ব্যর্থতার তীব্র গ্লানি তাঁকে অভিমানী করেছিল, বেদনাহত হয়েছিলেন। প্রিয় বঙ্গভূমি ছেড়ে তিনি শেষ ১৮ বৎসরের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন কর্মাটারে। কিন্তু তিনি যদি সত্যিই ব্যর্থ হতেন তবে মাত্র দেড়শো বছরের ব্যবধানে কী আমাদের মেয়েদের জীবনে এতটা পরিবর্তন আসত। আজ আমরা মেয়েরা যে শিক্ষার, কর্মের, স্বাধীন নাগরিকত্বের অধিকার অর্জন করেছি সে তো  তাঁরই স্বপ্নপূরণ। কল্যানকামী রাষ্টব্যবস্থা, প্রান্তিক মানুষের খাদ্য,স্বাস্থ্য, শিক্ষার অধিকারের লড়াই তো তাঁরই সংগ্রামের উত্তরাধিকার। জ্ঞান, ত্যাগ, সেবার মন্ত্রে দীক্ষা দিতে - ধর্ম, বর্ণ,জাতির ঊর্দ্ধে শিক্ষাকে স্থাপন করতে ১৮৭২ খ্রীষ্টাব্দে তিনি যখন মেট্রোপলিটান কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তখন তা ছিল অলীক স্বপ্ন। আজ তা বাস্তব। এখনও অনেক পথ বাকি কিন্তু যে মহান মনুষ্যত্বের বীজ তিনি বপন করে গেছেন তা অমর – মৃত্যুহীন, সততপ্রবাহমান এক প্রাণধারা। 

বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

বসন্ত ও নাগরিক জীবন

আমি একজন নগরবাসী, আমার জীবন পরিচালিত হয় ক্যালেন্ডারের তারিখ অনুযায়ী।  সেই অনুসারে আজ বসন্সত উৎসা, দোল কিন্তু আমার সাথে বসন্তের তো দেখা হয়নি। তবে সে কী আসেনি? এসেছে দেখা হয়নি। কেমন করে হবে - দখিন হাওয়া, পলাশ, কৃষঞ্চূড়া, কোকিল, চাঁদের আলো, গুনগুনিয়ে ওঠা গানের কলি...  সব কেমন বিস্মৃত অতীত। প্রকৃতির সাথে সন্নগতহীন সেই বসন্ত ঊৎসবের ডালি তবে কী দিয়ে সাজানো -  আবিরে, পলাশের মালায়, প্রথা অনুযায়ী পোষাকে, গানে -  যা অনেক আগেই ছুটি নিয়েছে আমাদের রোজকার জীবন থেকে।

 নাগরিক জীবন কী তবে বসন্তহীন? আতিশয্যের খোলস থাকলেও অন্তঃসারশূণ্য। প্রকৃতির সাথে মিলন না হলে জীবন রঙিন হবে কেমন করে? হয়তো নাগরিক আমার মন অপেক্ষা করছে কোন বসন্তের ব্রজ নির্ঘোষের।

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

বইয়ের কথা - বিশ্বকর্মার সন্ধানে



বইয়ের কথা
বিশ্বকর্মার সন্ধানে
মীরা মুখোপাধ্যায়
প্রকাশকঃ মীরা মুখোপাধ্যায় ; পরিবেশকঃ দীপায়ন। কলকাতা।
প্রথম প্রকাশঃ জানুয়ারী, ১৯৯৩
৮৯ পৃষ্ঠা
এই বইটির লেখিকা একজন শিল্পী, শিল্পের গবেষিকা এবং ভারত ইতিহাস ও সমাজের অনালোকিত অধ্যায়ের সন্ধানকারী। এই বইটিতে তিনি ‘বিশ্বকর্মা’ শব্দের সঙ্গে জড়িত সমস্ত মিথ, পৌরানিক, ঐতিহাসিক, সমাজ ইতিহাসের অনালোকিত অধ্যায়গুলি আলোকিত করেছেন সংগৃহীত তথ্য, উদ্ধৃতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বোধের আলোকে। এযেন নিজের সমাজকে নতুন করে জানা। সমাজের যে দক্ষ, শিল্পকার, কারিগর, বাস্তুকার – কর্মাদের যে কাহিনী আমরা কখনো কান পেতে শুনতে চায়নি বা পায়নি মীরা মুখোপাধ্যায় সেই কাহিনী এই বইতে আমাদের জানিয়েছেন। নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছেন এই সুপ্রাচীন সভ্যতার প্রকৃত কারিগরদের ‘মূল’কে, টিকে থাকার সংগ্রামী কাহিনী নিয়ে। এই বইয়ের অধ্যায়গুলির দিকে অনুসন্ধি দৃষ্টিপাত করলেই বোঝা যায় ইতিহাস বুঝি নতুন করে কিছু বলতে চায় –
Ø  সমুদ্রমন্থন
Ø  বিশ্বকর্মাঃ কাজের সূচনা
Ø  বিশ্বকর্মা পূজার নানা সময় ও বিধিনিয়মঃ একতা ও ভিন্নতা
Ø  বিশ্বকর্মাঃ লোককথা গল্প কিংবদন্তি
Ø  ধর্মপূজা
Ø  ঘুড়ি ও বিশ্বকর্মা
Ø  বিশ্বকর্মা ও তীর্থ
Ø  অসুর এবং বিশ্বকর্মা
Ø  স্থাপত্যবিদ্যা এবং বিশ্বকর্মা
Ø  বিশ্বকর্মার সন্ধানেঃ শেষ অধ্যায়

শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৪

বইয়ের কথা



আমি বিবেকানন্দ বলছি
মুখবন্ধ ও সম্পাদনা শংকর
প্রকাশক সাহিত্যম্‌
১৮ বি শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট কলকাতা-৭০০০৭৩
প্রথম প্রকাশ ২০০৮। পৃষ্ঠাঃ ৩৮৩।
ISBN: 81-7267-033-8মূল্যঃ ১২৫ টাকা।
এই বইটি এক বিরল মানুষের আত্মকথন কিন্তু আত্মজীবনী নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি নিজের কথা, নিজের পরিজন, ভাবনা, স্বপ্ন নিয়ে যা বলেছেন বা লিখেছেন তার এক অসাধারণ সংকলন। পড়তে পড়তে মনে হয় স্বামীজী যেন নিজের জীবনের গল্প বলছেন। কখনো তঁআকে মনে হয় এক ভেঙে পড়া এক হালভাঙা মানুষ যার স্বপ্নগুলো প্রতি মূহূর্তে দলিত হচ্ছে, দেশের মানুষ্কে বুঝতে পারছেন কিন্তু বোঝাতে পারছেন না তো আবার পরক্ষনে ঝলসা ওঠে বীর, বিপ্লবী এক তরুণ সন্ন্যাসীর সঙ্কল্প। এই বইটি পড়ে আমি এক মানুষ বিবেকানন্দের সন্ধান পেয়েছি যার রাগ হয়, অভিমান হয় কিন্তু মেধা, ভালবাসা আর মনুষ্যত্বের এক অফুরন্ত উৎসধারা। অ-সাধারণ এক মানুষ।